ঘন কুয়াশার কারণে আরিচা–কাজিরহাট ও পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিসহ সকল ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টা থেকে আরিচা–কাজিরহাট এবং রাত সাড়ে ১১টা থেকে পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নৌরুটে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র শীতের মধ্যে ঘাট এলাকায় আটকে পড়া যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু যাত্রীরা কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই পদ্মা–যমুনা নদী অববাহিকায় কুয়াশা জমতে শুরু করে। রাত সাড়ে ১১টার পর কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেড়ে যায় যে ফেরির মার্কিং বাতির আলো দেখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নৌপথে ফেরি চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ নামের একটি ফেরি যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে মাঝনদীতে নোঙর করে থাকতে বাধ্য হয়। এছাড়া পাটুরিয়া ঘাটে পাঁচটি ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, কুমিল্লা, বাইগার ও শাহ পরান এবং দৌলতদিয়া ঘাটে চারটি ফেরি এনায়েতপুরী, ভাষা শহীদ বরকত, হাসনাহেনা ও খান জাহান আলী ঘাটে বেঁধে রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে আরিচা–কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচলও বন্ধ রয়েছে। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। কনকনে শীতের মধ্যে ঘাটে আটকে থাকা যাত্রী ও চালক-শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সালাম হোসেন বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে আরিচা–কাজিরহাট এবং রাত সাড়ে ১১টা থেকে পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হবে বলে তিনি জানান।