যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে আমেরিকান কোম্পানি এক্সন মোবিলের বিনিয়োগ সীমিত করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি এসেছে এক্সনের সিইও ডারেন উডসের মন্তব্যের পরপরই, যেখানে তিনি ভেনেজুয়েলাকে ‘বিনিয়োগের অযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক তেল বাজার এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে।
গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে এক্সনের সিইও ট্রাম্পকে জানান, ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ করতে হলে আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। উডস বলেন, “আমরা সেখানে ইতিমধ্যেই দুবার সম্পদ হারিয়েছি। তৃতীয়বারের জন্য বড় পরিবর্তন দরকার।” তিনি যুক্তি দেন যে, টেকসই বিনিয়োগের সুরক্ষা এবং হাইড্রোকার্বন আইনের সংস্কার ছাড়া ভেনেজুয়েলা ‘অবিনিয়োগযোগ্য’।
এক্সন, কোনোকোফিলিপস এবং শেভরন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান তেল কোম্পানি দশক ধরে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর (PDVSA) প্রধান অংশীদার ছিল। ২০০৪–২০০৭ সালের মধ্যে হুগো শ্যাভেজের সরকার শিল্প জাতীয়করণ করলে সেভ্রন পিডিভিএসএ-এর সঙ্গে চুক্তি বজায় রেখেছে, কিন্তু এক্সন ও কোনোকোফিলিপস দেশ ত্যাগ করে আন্তর্জাতিক আদালতে আরবিট্রেশন মামলা চালায়। আদালতের রায় অনুসারে, ভেনেজুয়েলা এখন এক্সন ও কোনোকোফিলিপসের কাছে ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণী।
কোনোকোফিলিপসের সিইও রায়ান ল্যান্স ট্রাম্পকে জানান, তার কোম্পানি ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় অ-সার্বভৌম ঋণদাতা। তিনি উল্লেখ করেন যে ঋণ পুনর্গঠন এবং সম্পূর্ণ শক্তি ব্যবস্থার সংস্কার দরকার। ট্রাম্প উত্তরে বলেন, “তোমরা তোমাদের টাকা বেশির ভাগই ফিরে পাবে, তবে অতীতের ক্ষতির দিকে আমরা বেশি মনোযোগ দেব না।”
ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, তার প্রশাসনই নির্ধারণ করবে কোন আমেরিকান কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় কাজ করতে পারবে। “তোমরা সরাসরি আমাদের সঙ্গে চুক্তি করবে, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়। আমরা চাই না তোমরা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে লেনদেন করো।” এই পদক্ষেপ মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যা আদালত বা ঋণদাতাদের ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির আয় যা যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগারে রাখা জব্দ করা থেকে বিরত রাখবে। এটি ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
এই উন্নয়ন ভেনেজুয়েলার তেল রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। একদিকে এটি আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শক্তি বাজারের ভবিষ্যৎও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। ট্রাম্পের পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার তেল বিনিয়োগকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পথে নিয়ে যাচ্ছে।