কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে মিলেছে বিপুল পরিমাণ টাকা। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলার পর পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনার গয়না।
সাধারণত তিন মাস পর পর দানবাক্স খোলা হলেও এবার চার মাস ১৭ দিন পর খোলা হয়। এখন চলছে টাকা গণনার কাজ।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“এবার আমরা ৪ মাস ১৭ দিন পর দানবক্স খুলেছি। এবার রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার ছাত্ররা টাকা গণনার কাজ করছেন।”
জানা গেছে, টাকার গণনায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫০০ জনের একটি দল। এর মধ্যে রয়েছেন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ব্যাংক স্টাফ, মসজিদ কমিটির সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জামিয়া ইমদাদিয়া ও নুরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ৩৪০ জন ছাত্র।
পাগলা মসজিদের ইতিহাস
প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এই মসজিদকে ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। ধারণা করা হয়, একসময় বীর ঈসা খাঁর বংশধর জিলকদর খান নামের এক সাধক এখানে বসবাস করতেন। তার মৃত্যুর পর তার আস্তানাকেই মসজিদে রূপান্তর করা হয়।
বিশ্বাস করা হয়, এ মসজিদে মানত করলে মনের বাসনা পূরণ হয়। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে নগদ অর্থ, সোনা, রূপা, গরু, ছাগলসহ নানান জিনিসপত্র দান করে থাকেন।
প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে মানতকারীদের ঢল নামে এ মসজিদে।