চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার পূর্ব নাছিরাবাদ মৌজায় এক প্রবাসীর জমি দখল, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস (সহকারী একান্ত সচিব) পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে সাফওয়ান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রতিবাদে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জজ কোর্টের আইনজীবী শাহাদুল ইসলাম, মো. আবুল কাশেম, প্রবাসী এনামুল হক, ভুক্তভোগী নাসরিন সুলতানা, আনজুমান আরা, সীমা আক্তার ও কেয়ারটেকার ইনসানসহ অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পূর্ব নাছিরাবাদ মৌজার বি.এস. ২৮২ নম্বর খতিয়ানের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগকারী মোহাম্মদ মুসলিমের দাবি, বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি কেনার পর তিনি আইনগতভাবে তা ভোগদখল করে আসছিলেন। পরবর্তী সময়ে মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সম্পত্তি নিয়ে নিম্ন আদালত, জেলা জজ আদালত ও উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা ও আপিল বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে আদালতের স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত আদেশ বহাল থাকার সময়েও সম্পত্তি নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, সাফওয়ান নিজেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে পরিচয় দিয়ে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন। একই ঘটনায় আলেমুল হকের নামেও সম্পত্তি সংক্রান্ত বায়নানামা দলিল সম্পাদনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে যদি কোনো ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা সম্পত্তি বিরোধে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা অভিযুক্তদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে প্রবাসীদের সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করা হয়। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধে কোনো ধরনের প্রভাব বা ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান বক্তারা।
অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত সাফওয়ান বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।