
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ভয়াবহ বন্যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মালয়েশিয়া প্রবাসী নূর মুহাম্মদ বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফিরেছিলেন, কিন্তু বাড়ি ফিরে তাকে দাঁড়াতে হলো নিজ পরিবারের ২৪ সদস্যের জানাজায়।
২২ আগস্ট জিও নিউজের খবরে বলা হয়, বুনের জেলার কাদির নগর গ্রামে মুহাম্মদের ৩৬ কক্ষবিশিষ্ট বাড়িতে অবস্থান করা ২৮ জনের মধ্যে ২৪ জন প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ছিলেন মুহাম্মদের মা, এক ভাই ও এক বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, যারা বিয়ের আয়োজন করতে একত্র হয়েছিলেন।
প্রবল মেঘভাঙা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা ও বন্যার পানি পুরো গ্রামকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। ধসে পড়ে ঘরবাড়ি, বাজার ও ভবন। নূর মুহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, “সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমি ফিরে এসেছি শুধু ধ্বংসস্তূপ আর পাথরের স্তূপ দেখতে। মা, ভাই, বোন, চাচা-চাচি, দাদা—সবাইকে বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।”
মাত্র এক ঘণ্টায় ১৫০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় বুনারে, যা “বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা”র কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় নূরের বাবা ও আরেক ভাই ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে তাকে নিতে গিয়েছিলেন বলে প্রাণে বেঁচে যান।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বর্ষাকালের শুরু থেকে সারা দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৬ জনে। শুধু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২০০ জনের। এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী বর্ষণ ও বিরল মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনা বাড়ছে। এর ফলে প্রতি বছরই ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তীব্র হচ্ছে।





