গণঅভ্যুত্থান দিবসে কক্সবাজারে এনসিপি নেতারা, উঠেছে নানা প্রশ্ন

৫ আগস্ট—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক দিন। স্বৈরাচার সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার পতনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে যখন বিজয় মিছিল, র‌্যালি ও সমাবেশ হচ্ছে, তখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতা অবস্থান করছিলেন পর্যটন শহর কক্সবাজারে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

কী ঘটেছিল সেদিন?
বিজয় দিবসে কক্সবাজারে অবস্থান করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

প্রথমে গুজব রটে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাস-এর সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন। গুঞ্জনের জেরে কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয় এবং এনসিপি নেতাদের অবস্থান করা হোটেলের সামনে বিক্ষোভ করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

নেতাদের অবস্থান
বিবিসিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,

“হুট করে ঘুরতে আসছিলাম, পদযাত্রায় ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম। একটু সাগর পাড়ে বসতে এসেছিলাম। হোটেলে চেক ইন করে মাত্র বসেছি, এর মধ্যেই গুজব রটে গেল! এটি সম্পূর্ণ মিডিয়া প্রোপাগান্ডা ও ভুল তথ্য।”

এদিকে এনসিপির নেতা সারজিস আলম ফেসবুক কমেন্টে লিখেছেন—

“মিডিয়া প্রোপাগান্ডারও একটা লিমিট থাকে… ন্যূনতম পেশাদারিত্ব থাকা উচিত!”

তবে প্রশ্ন রয়েই যায়
তবে প্রশ্ন উঠেছে, যে দলের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার পতনের মতো গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, সেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ‘পলায়ন দিবস’ বা ‘গণজাগরণ দিবসের’ মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে কেন কর্মসূচি না করে সমুদ্রসৈকতে অবস্থান করলো?

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দিবসটি নানা কর্মসূচিতে পালন করলেও, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ঢাকায় অনুপস্থিতি সমর্থকদের ভেতরেও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত বছরের এই দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্ররা পরবর্তীতে গঠন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি। সেই ইতিহাসের দিনেই এনসিপির নেতারা ঢাকার রাজপথে না থেকে সাগরপাড়ে সময় কাটানোয় অনেকে বলছেন, এটি রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার অভাব।