কান্নাও যেন ক্লান্ত এখন, গাজায় নিভে গেল আরও ৬৫ প্রাণ

গাজার দিকে তাকালে প্রশ্ন জাগে—কান্নাও কি ক্লান্ত হয়ে পড়ে? অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার (২২ আগস্ট)ও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন আরও ৬৫ ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই নিহত হয়েছেন ৩৭ জন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, অনাহারে ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন আরও দুইজন, এর মধ্যে একটি শিশু। এ নিয়ে দুর্ভিক্ষ-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৭৩ জনে, যার মধ্যে রয়েছে ১১২ শিশু।

এদিকে, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা অনেক মানুষকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। ইসরায়েলি অবরোধ ও সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না।

আল-জাজিরার প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, শেখ রাদওয়ান এলাকার একটি স্কুল ভবনের ওপর ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার উড়তে থাকে। আশ্রয় নেওয়া মানুষরা আতঙ্কে তাকিয়ে থাকলেও কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে ড্রোনটি। এতে ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ওই স্কুল ভবনেই অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছিল বহু ফিলিস্তিনি পরিবার।

শুধু তাই নয়, মানবিক সহায়তা নিতে আসা বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় এমন হামলায় মারা গেছেন আরও ২৪ জন, আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, ২৭ মে থেকে মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৬০ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ১৯৭ জন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হামাস যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলের শর্তে সম্মত না হলে গাজা শহরকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর ফলে পূর্ণ অবরোধের শিকার গাজার ২৪ লাখ মানুষ আজ দুর্ভিক্ষ, রোগব্যাধি ও জরুরি সেবার ভেঙে পড়া অবকাঠামোর মধ্যে চরম মানবিক বিপর্যয়ে দিন কাটাচ্ছেন।