
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে কাজ করা হাজারো প্রাক্তন কর্মী এখন ক্যানসারসহ নানা মারাত্মক রোগে ভুগছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা। কারণ, মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা বোর্ডের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে।
টেনেসির ওয়াই-১২ ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমপ্লেক্সে ৩৪ বছর কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী স্টিভ হিকস ক্যানসার ও বিকিরণজনিত স্নায়ুর ক্ষতির চিকিৎসায় প্রতিদিন ৩০টি ওষুধ সেবন করছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, “আমি জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করেছি, কিন্তু এত অসুস্থ হয়ে বেঁচে থাকতে চাইনি। আমার থেকেও অসুস্থ আরও অনেকে আছেন।”
হাজার হাজার প্রাক্তন কর্মী ক্ষতিপূরণের দাবিতে আবেদন করলেও, প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল। বিকিরণজনিত ক্যানসার প্রমাণ করতে অনেক বছর সময় লাগে। এইচএইচএস-এর স্থগিতাদেশে তাদের আবেদন কার্যত আটকে গেছে।
২০০০ সালে প্রণীত এনার্জি এমপ্লয়িজ অকুপেশনাল ইলনেস কম্পেনসেশন প্রোগ্রাম অ্যাক্ট অনুযায়ী, প্রমাণ সাপেক্ষে প্রাক্তন কর্মীরা ১.৫ লাখ ডলার এককালীন ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের “সরকারি কাঠামো ছোট করার” উদ্যোগে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি বোর্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বোর্ড সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ নবায়ন না হলে এটি স্থায়ীভাবে বাতিল হবে। অন্যদিকে সিডিসি জানিয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সভা বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে।
কিন্তু বাস্তবে হিকসের মতো হাজারো প্রাক্তন কর্মী এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে— চিকিৎসার সুযোগ ও ক্ষতিপূরণের দাবি ঝুলে আছে, অথচ সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে তাদের জীবনের।





