
এক ছাদের নিচে চার স্ত্রী ও ১৪৪ সন্তানসন্ততিকে নিয়ে আনন্দে ভরা এক জীবন কাটাচ্ছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরের ৭৮ বছর বয়সী সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাঈদ মুসবাহ আল কেতবি। এত বড় পরিবার থাকা সত্ত্বেও তার সংসারে নেই কোনো অশান্তি বা কলহ—বরং হাসি, গল্প, ঐতিহ্য আর ঐক্যের মধ্যেই চলছে তাদের প্রতিদিনের জীবন।
সম্প্রতি গালফ নিউজ তাদের প্রতিবেদনে এই অসাধারণ পরিবারের গল্প প্রকাশ করেছে, যা প্রথমে উঠে আসে ইমরাত আল ইউম পত্রিকার রিপোর্টে।
১৪৪ সদস্যের এক বিশাল পরিবার
সাঈদ মুসবাহ আল কেতবির ঘরে ১২ জন ছেলে, ১৩ জন মেয়ে এবং একশরও বেশি নাতি-নাতনি। তাদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত—কেউ আর্মিতে, কেউ পুলিশে, কেউ আবার শিক্ষা বা সরকারি সেবায়। সপ্তাহে একদিন সবাই একত্রিত হন পারিবারিক আড্ডায়; শুক্রবারে নারী সদস্যরা, অন্যদিনে পুরুষরা।
“আমি আমার সন্তানদের দায়িত্ববোধ, ধৈর্য আর আন্তরিকতা শিখিয়েছি,” বলেন আল কেতবি। “ছেলেরা সমাজের কাজে নিয়োজিত, মেয়েরা ঘর সামলায়। আমরা সবাই ঐতিহ্যের ধারায় বেঁচে আছি।”
পরিবারে ঐতিহ্য, ধর্ম ও মূল্যবোধের শিক্ষা
তিনি সন্তানদের শেখিয়েছেন “আমিরাতি আল সানা”—একটি মূল্যবোধ-ভিত্তিক জীবনদর্শন, যা বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, উদারতা, সততা, সহনশীলতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা শেখায়।
“ন্যায়বিচারই সংসারে শান্তি আনে,” বলেন আল কেতবি। “স্ত্রীদের প্রতি সমতা ও শ্রদ্ধাই ঘরের শৃঙ্খলা বজায় রাখে।”
সমাজসেবক ও গল্পকার
সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা শুধু পরিবারপ্রধানই নন, বরং একজন সমাজসেবক ও গবেষকও বটে। তিনি আমিরাত ও মরুভূমির ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন, তরুণ প্রজন্মকে শেখান দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। গত সেপ্টেম্বরে শারজাহের শাসক শেখ ড. সুলতান বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি তাকে “ভ্রমণকারীদের গল্প” অনুষ্ঠানে সম্মাননা দিয়েছেন।
ধর্মপরায়ণ জীবন
৭৮ বছর বয়সেও তিনি নিয়মিত নামাজ ও কোরআন অধ্যয়ন করেন। জীবনে ৪১ বার হজ ও ১২৯ বার ওমরাহ সম্পন্ন করেছেন।
“এটাই আমার উত্তরাধিকার,” বলেন তিনি নাতি-নাতনিদের দিকে তাকিয়ে। “আমি চাই তারা ঐক্য ও ভালোবাসার এই ধারা ধরে রাখুক।”





