গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের প্রকাশ্য আহ্বান ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের বারবার হামলার কারণে চুক্তিটি কার্যত ‘ভঙ্গুর’ অবস্থায় রয়েছে। এবার ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা গাজায় স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত পরিকল্পনাকেও উপেক্ষা করে। এই পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি বা ভূখণ্ডটি নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার অনুমতি নেই।

ইসরায়েলের ডানপন্থী চ্যানেল ৭-এর প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, সোমবার ‘গাজা—দ্য ডে আফটার’ শীর্ষক সম্মেলনে এসব বক্তব্য রাখেন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট)-এর কর্মকর্তারা। উপপ্রধানমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন বলেন, গাজায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ইসরায়েলের বৃহত্তর ভূখণ্ডগত দাবির অংশ। তিনি আরও বলেন, গাজা এবং পুরো ‘ল্যান্ড অব ইসরায়েল’-জুড়ে ইসরায়েলের কর্তৃত্ব থাকা উচিত।

একই সম্মেলনে কট্টর ডানপন্থী আইনপ্রণেতা সিমচা রথম্যানও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গাজার ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব কেবল ইসরায়েলের হাতে থাকা উচিত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চালানো ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। একই সময় অন্তত ১,৭১,৩১৮ জন আহত হয়েছেন এবং গাজা উপত্যকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে। এ সময়ে অন্তত ৪৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৩৬ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, শান্তিচুক্তির ভিত্তিতে গাজার সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে স্বাধীন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে সমস্ত কর্তৃত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট ও চূড়ান্ত এবং তা গাজার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধক্লান্ত গাজাবাসীর জন্য এই ঘোষণা নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত বহন করছে। গাজার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়া বেসামরিক মানুষের জন্য স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।